কাজী রাফি

জীবনের লম্বা একটা সময় আমার কেটেছে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে। সেই সুবাদে বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য অনেক দেশের মানুষের সাথে আমার মেশার, কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সংযোগ ঘটেছে। বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বিচিত্র এবং বিপুল অভিজ্ঞতা। আজকে খারাপ অভিজ্ঞতার কথাই বলি-

আত্মসম্মানহীন এবং অযোগ্য মানুষদের লক্ষণঃ

১। চতুরতা/কারসাজি ( Manipulation) এবং অসততার সাথে পরিস্থিতিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই প্রাণিগুলো সচেষ্ট থাকে। একসময় এরা বুঝতেই পারে না যে, এটাই তাদের ‘চরিত্র’ হয়ে গিয়েছে। নিজেকে বা কাজকে নয় বরং চেয়ার, পোশাক/ইউনিফর্ম এবং পদ-পদবিকে এরা তখন সম্মান এবং সামাজিক মর্যাদার নিয়ামক মনে করে। এসব অর্জনে ঘুষ, উপঢৌকন, মোসাহেবি, পা চাটা যা প্রয়োজন তা করতে এদের আত্মসম্মান কোনোদিন যায় না। গদি পেলেই এরা আল্লাহ নিজ হাতে তাকে ‘সম্মানিত’ করেছে এমন শোকর-ঢেকুর তোলে (হায়, স্রষ্টা যার ‘আত্মমর্যাদা’ বোধই কেড়ে নেন, সেই মানুষগুলো সমাজে/দেশের মানুষকে কতটুকু মুর্খ মনে করলে এরা গলা ফাটিয়ে নিজেকে ‘সম্মানিত’ ঘোষণা করে!)। এরা-

ক) তাদের চেয়ে কাজে, চেতনায়, মননে শ্রেষ্ঠ এবং মেধাবীদের ঘৃণা করে এবং সামনে প্রশংসা করলেও পেছনে তাদের অনিষ্টের জন্য মরিয়া হয়ে থাকে।

খ) নিজেদের প্রয়োজনের প্রতি আঠার মতো লেগে থাকে।

গ) নারী-পুরুষের সৌন্দর্য এদের জীবনের প্রধান বিবেচ্য। সবার (বিশেষত নারীদের)দৃষ্টি আকর্ষণে এরা ইনিয়ে-বিনিয়ে বীরত্বের গল্প শোনায় (এরা বোঝেই না, পদবি, ডিগ্রি, অবস্থান অথবা পোশাক কাউকে ‘নায়ক’ করে না। বড় কর্ম করার সামর্থ্যই মানুষকে নায়কোচিত করে)

ঘ) অন্যের মানসিক সুস্থতা, মানবিকতা এবং অভিজ্ঞতাকে এরা প্রশ্নবিদ্ধ করে।

২) নিজেকে নির্লজ্জভাবে জাহির করার জন্য এরা অন্যদের (বিশেষত যারা তার অনুসারি নয় তাদের) অবমূল্যায়নে পারঙ্গম। নিজেদের উপরে তুলতে এরা অন্যদের ডুবিয়ে দিতে দ্বিধা করে না।

৩) ‘নাটক পরিস্থিতি’ তৈরি করা এদের নিত্যদিনের কাজ।

৪) বড় কাজের পরিধি সৃষ্টি করাকে, প্রচলিত এবং অকেজো ধ্যান-ধারণাকে বাতিল করে নতুন পথ সৃষ্টি করাকে, গবেষণা, বিজ্ঞানের বড় আবিস্কার, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে এরা অবজ্ঞা করে। এদের নিজের ঢোল, নিজের পদ-পদবি, নিজের ক্ষমতা-সামাজিক অবস্থান এবং অখাদ্য চিন্তা-চেতনার চেয়ে জগতে আর কিছুই বড় নয়। এরা চায়ও না, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হোক।

৫) অন্যের শক্তি –সামর্থ্য এবং প্রজ্ঞাকে নিঃশেষ করতে, মানুষকে অমর্যাদা করতে এরা অতুলনীয়।

৬) এরা সবকিছুকেই ব্যক্তিগতভাবে নেয়।

এই তালিকা আরো লম্বা হতেই পারে। তবু, অনন্য কিছু মানুষকেও জেনেছি (তাদের সংখ্যা যদিও নগণ্য) – যারা ঠিক এর বিপরীত। তাদের জন্যই পৃথিবীটা সুন্দর। সুন্দর এই মনুষ্য জীবন।

108Mazibar Rahman Khoka, খালেদ হোসাইন and 106 others47 Comments6 SharesLikeCommentShare

১ thought on “আত্মসম্মানহীন এবং অযোগ্য মানুষদের লক্ষণঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!