কাজী রাফি

ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহে মদদ দেওয়ার কারণে চৌধুরী আসাদুজ্জামানের শেষ বংশধরদের হন্যে হয়ে খুঁজছে ব্রিটিশ-চর। তাদের নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো মুন্সি আব্দুল বশির একদিন নওয়াব মোহাম্মদ আলীর কাছে এসে নাগিব আহমেদ এবং তার বোন ছোট্ট মাহজাবিনের জন্য আশ্রয় চাইলেন। নওয়াব এই কন্যাটির তেজোদ্দীপ্ত চোখ দেখে তাকে ‘প্রিন্সেস মাহজাবিন বলে সম্বোধন করলেন। এই প্রিন্সেস ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. পি কে মুখার্জী, সৈয়দ মুজতবা আলীসহ নিজের অধ্যাপক স্বামীকে নিয়ে সম্পৃক্ত হয় বাংলার মহান ভাষা-আন্দোলন এবং পুত্র সভ্যতার ঐতিহ্য রক্ষার জন্য। আর এই প্রস্তুতির অনুসঙ্গ হিসেবে সে তৈরি করে শুভ্র নামের একজন গল্পবলিয়ে যে গল্পের মাধ্যমে ত্রিমোহিনীবাসীর অন্তর্লোক বিনির্মাণ। করার ব্রত নেয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধে মাহজাবিন-কন্যা নাজ সম্ভ্রম রক্ষা করতে সক্ষম হলেও নাগিবের স্ত্রী এবং দীপন আহমেদ তুষারের মা বিখ্যাত গজল গায়িকা মেহের নিগার দিশাকে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রিগেডিয়ার তোজামুলের। ক্যাম্পে। ত্রিমোহিনীর গল্পবলিয়ে শুভ্রর স্ত্রী সিফাতকে বন্দী রেখে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে অবশেষে মৃত এবং নগ্ন সিফাতকে শিবলিঙ্গের উপর বসিয়ে রাখা হয়। শিবমন্দিরের পুরোহিত নিরঞ্জন এবং মাহজাবিনের। এককালের খাজাঞ্চি এবং রাজাকার সুফিয়ানের। কূটবুদ্ধিতে। যুদ্ধ শেষ হয়েও শুরু হয় নতুন এক যুদ্ধ। ভ্রাতুস্পুত্র দীপন আহমেদ তুষারকে এক রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তোলার সাধনায় নিমগ্ন হন মাহজাবিন। যুদ্ধশেষে গল্পবলিয়ে শুভ্র তার সব গল্প শোনায় আগ্রহী। এক কিশোরকে।

তার অনেক বছর পর… বড় হয়ে ইতিহাস-প্রিয় ঔপন্যাসিক হয়ে ওঠা সেই কিশোর একদিন সহযাত্রী নওরিনকে দেখে চমকে ওঠে- এ যে প্রিন্সেস মাহজাবিন! নিৰ্করকে সেই কৈশোর থেকে মাঝে মাঝেই যিনি স্বপ্ন ঘোরে সম্রাট অশোকের সমাধিস্থল দেখানোর কথা বলে নিয়ে যান অচেনা এক জগতে। নিঝরের কাছ থেকে এক পাণ্ডুলিপি পড়তে নিয়ে নওরিন জড়িয়ে যায় নিঝরের সাথে। সারথী হয় দরিদ্র শিশুদের জন্য তার নির্মিত আশ্রমের সাথে । যে আশ্রম রক্ষার সংগ্রামে তারা যখন মরিয়া তখনই আশ্রমের দলিল ভেবে সন্ত্রাসীরা নিয়ে যায় খামের প্যাকেটে মোড়া নির্ঝরের লেখা উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি। ল্যাপটপসহ উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি উদ্ধারে ঔপন্যাসিক নির্ঝর ফ্লাটিং শুরু করে স্থানীয় সাংসদ কন্যার সাথে । প্রাচীন টেথিস সাগরের নাম অনুকরণে তিনি যার নাম রেখেছেন টিথিয়া আহমেদ দীপ্তি। গ্রন্থের মাঝে গড়া, মা-হীনা দীপ্তির অন্তর্লোক নিয়ে খেলতে গিয়ে নির্ঝর করে বসে জীবনের চরমতম ভুল।
কিন্তু নির্ঝর যাকে দখলদার ভেবে তার কন্যার সাথে প্রেমাভিনয় করছে সে আর কেউ নন, মাহজাবিনের তিল তিল স্বপ্নে গড়া এক রাজনীতিবিদ এবং মহান একজন মুক্তিযোদ্ধা দীপন আহমেদ তুষার। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, নওরিন নিজেকে এক শিক্ষকের। কন্যা জানলেও সে আসলে সেই রাজনীতিকের মেয়ে! অর্থাৎ সম্পর্কে সে প্রিন্সেস মাহজাবিনের নাতনি। রহস্যের সকল ডানা গিয়ে মিলেছে ‘ ত্রিমোহিনীর বিশাল ক্যানভাসে। অসংখ্য ঐতিহাসিক চরিত্রের সাথে এক ডজন শক্তিশালী প্রধান চরিত্রের কর্ম-সমারোহে কাজী রাফি এমন এক বিস্তৃত এবং মোহাচ্ছন্ন জগৎ তৈরি করেছেন যা একই সাথে রহস্যময় এবং আমাদের। জাতিসত্তার চিহ্ন বহনকারী গবেষণালব্ধ দলিল, আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্যকে ধারণ করেছেন গতি এবং কাব্যব্যঞ্জনায়।
—মঈন আহমেদ।

প্রচ্ছদ
ধ্রুব এষ

প্রকাশক
পার্ল পাবলিকেশন্স

আইএসবিএন
9789844951310

তৃতীয় মুদ্রণ
২০১৯

অনলাইনে কিনতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

error: Content is protected !!