কাজী রাফি

নোরার কৈশোরে ফেলে আসা একরাশ বাজে স্মৃতি, জাহিনের যৌবনে ফেলে আসা অর্চনা নামের এক নারীর স্মৃতির কাছে হোঁচট খায় । পুরুষদের প্রতি নোরার আজন্ম ঘৃণাটুকু বাঁক খেয়ে অন্য এক জলস্রোত হয়ে যায়। বিনয়ী অথচ প্রতিভাবান, যত্নবান অথচ চেতনায় প্রজ্ঞাবান এক তরুণের প্রতি তার হৃদয় অবারিত হতে থাকে। কয়েক ঘণ্টাকেই মনে হয় দীর্ঘকালের আখ্যান। নোরা ভালোবেসে ফেলে জাহিনকে। বিমানবন্দরেই নিজের অনামিকার আংটি সে পরিয়ে দেয় জাহিনকে। ভোররাতে বিদায় নিয়ে যখন সে মাদ্রিদগামী ফ্লাইটে জাহিন তখন। আফ্রিকার জোছনা প্লাবিত এক মরুভূমিতে নোরাকে নিয়ে স্বপ্নে বিভোর। স্বপ্নটা ভেঙে গেলেই সে পুনরায় চমকে ওঠে। বিমানবন্দরে বিপদসংকেত হয়ে বাজতে থাকা সাইরেনের শব্দ তার স্নায়ুকে সজাগ করে তোলে। নোরার প্লেনটা উড্ডয়নের পরপরই দ্বিখণ্ডিত হয়ে ছিটকে পড়ে আছে মাঠের মাঝখানে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কারে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কে নাকচ করে। দিলেও, জাহিনের হৃদয় জানে-নোরা বেঁচে আছে-নোরা কে নিয়ে নতুন করে শুরু হয় তার প্রেম, তার জীবন যুদ্ধ।

‘গদ্যের যুবরাজ’ খ্যাত কাজী রাফির বুননে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ক্যাসাব্লাঙ্কা, আফ্রিকার দিগন্ত-বিস্তৃত প্রান্তর ছাড়াও দুই তরুণ-তরুণীর জীবন এবং প্রেমের দর্শন প্রতিটি পাঠককে নতুন করে ভাবতে শেখায়। জীবনের বাস্তবতার অন্তরালে পরাবাস্তবতাকে, কল্পনার তুলিতে আঁকা স্বপ্নকে পাঠকের হৃদয়ে বুনে দিতে কাজী রাফির কলম উদার এবং দারুণ উর্বর হয়ে ওঠে। যে উর্বরতা মননে শুধু আলোই জালে না; তৈরি করে দেয় অনবদ্য সব দৃশ্যকল্পের স্মৃতি। যে স্মৃতি আমাদের জীবন এবং চেতনায় হয়ে যায় জোছনার এক প্রান্তর। হয়ে যায় ভালোবাসার অনবদ্য এক তেপান্তর।
কাজী রাফি তার প্রথম উপন্যাস ‘ধূসর স্বপ্নের সাসান্দ্রা’র জন্য পেয়েছেন ‘এইচএসবিসি কালি ও কলম পুরস্কার-২০১০’ এবং ‘এমএস ক্রিয়েশন। সম্মাননা-২০১০’। উপন্যাস এবং ছোটগল্পে। অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছেন নির্ণয় স্বর্ণপদক-২০১৩’।

প্রকাশক
অন্বেষা প্রকাশন

আইএসবিএন
9789844350038

প্রথম প্রকাশ
২০১৯

অনলাইনে কিনতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

error: Content is protected !!