কাজী রাফি

শারমিনের প্রতিটা লম্বা ছিল…
শারমিনের অনুভূতিগুলো নির্জন বনে একলা ঝরে পরা শুকনো পাতার মতোই বাতাসের কানে কানে তাকে ফিসফিস করে এক জীবনের কথা বলেছিল। শৈশব-কৈশোরের বন্ধু রুহানিকে অজান্তে ভালোবেসে ‘ত্যাগ’ শব্দকে হৃদয়ে ধারণ করে তবু শারমিন। বাতাসে ভাসা মর্মর হয়ে যায়নি। বিদেশে পড়াশুনা আর কর্মজীবন শুরু করেও কোনো এক অমোঘ আকর্ষণে আবার ফিরে এসেছিল মফস্বল শহরে। একহান রান্নার একমাত্র ছেলে রায়ান হাইজ্যাকারদের কবলে পড়লে শারমিন আবার জড়িয়ে যায় রুহানের জীবনে। রায়ান এবং তার ফুফাত বোন রুহীর জীবনে শারমিন নিজ জীবনের প্রতিবিম্ব খুঁজে পায়। স্মৃতিঘেরা শৈশবের আলো-বাতাস, অলি-গলিকে ভালোবেসে মিলিন্দা-বিল গেটস ফাউন্ডেশানের অর্থে সমাজের বঞ্চিত শিশুদের জন্য গড়ে তোলে স্কুল। কিন্তু বস্তিকে ট্রাম-কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা। লেকার্স-সোসাইটির সদস্যরা শারমিনের ছড়ানো শিক্ষার আলোকে তাদের মাদক পাচারকার্যক্রমে বাধা ভেবে ভংয়কর প্রতিশোধের নেশায় মেতে ওঠে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সামনেই সান্ধ্য ক্লাসে চিরকুমারী শারমিন রক্তাক্ত হয় গণধর্ষণে। তারও অনেক পর… রায়ান-রুহীর প্রেমের অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার পর…রুহী দেশখ্যাত তারকা হওয়ার পর এবং তাদের প্রেমের মান-অভিমানে মোনা নামের তরুণীর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে রায়ানের চোখের ভাষায়; অভিব্যক্তিতে এক স্বপ্ন-তরুণকে পেয়ে তার প্রেমে পড়ার পর এবং মোনার স্বামী শাফিন অনেক সমকামী তরুণীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর… রায়ানের সন্তানকে মোনা নিজ গর্ভে ধারনের পর… উপন্যাসের জটিলতর আবর্তে শারমিন তার প্রস্তুতি আর সংগ্রামের কথা শুনিয়ে রায়ানকে জীবনের পথে ফেরাতে চায়। শারমিন বলে, ‘আমার প্রস্তুতিটা লম্বা ছিল বলে, আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের লজ্জা না পেয়ে বলি, তোমাদের সামনে যে নারী, সে ‘৭১ পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য উত্তরসূরি, কারণ এ দেশের পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষা দিতে গিয়ে সে তার কুমারীত্ব বিসর্জন দিয়েছিল গণধর্ষণে’।

প্রচ্ছদ
ধ্রুব এষ

প্রচ্ছদের আলোচিত্র
কামরুল হাসান মিথুন

প্রকাশক
অনিন্দ্য প্রকাশ

আইএসবিএন
9789845260091

প্রথম প্রকাশ
২০১৭

অনলাইনে কিনতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

error: Content is protected !!